এমনিতে
হয়তো চুল তেমন পড়ে না। কিন্তু তেল, শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহারের সময়
চুল উঠছে। তবে চিন্তার কিছু নেই। এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায়ও আছে। এ নিয়ে
লিখেছেন ইলমা হোসেন
এমনিতে
হয়তো চুল তেমন পড়ে না। কিন্তু তেল, শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহারের সময়
চুল উঠছে। তবে চিন্তার কিছু নেই। এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায়ও আছে।
প্রতিদিন ৫০টি চুল পড়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এর থেকে বেশি চুল পড়লে দেখা
যায় এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। মানসিক চাপ, জ্বর বা কঠিন কোনো ডায়েট করলে
সাধারণত চুল পড়ে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার তেমন কিছু নেই। এ চুল স্বাভাবিক
প্রক্রিয়ায় আবার গজাবে। তবে হরমোনের সমস্যার কারণে চুল পড়লে চিকিৎসকের
শরণাপন্ন হতে হবে। এ ছাড়া চুল পড়া প্রতিরোধ করতে হলে ভালোমানের শ্যাম্পু বা
তেল ব্যবহার করতে হবে। আর বেশি শক্ত করে চুল বাঁধা ঠিক নয়। এতে চুলের গোড়া
নরম হয়ে চুল পড়ে। ভিটামিনযুক্ত খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন
ক্যাপসুল খেতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে চুল পড়া কমে যাবে।
রূপবিশেষজ্ঞ নাইমা ইসলাম বলেন, 'চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ও তেল ব্যবহার করা উচিত। আমাদের নানা অজ্ঞতার কারণে স্বাভাবিকের থেকে বেশি হারে চুল পড়ে। দেখা যায়, যার মাথার ত্বক তৈলাক্ত, তিনি হয়তো শুষ্ক ত্বকের শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন। তৈলাক্ত চুলে দেড় মাস অন্তর তেল ব্যবহার করলেও চলবে। কিন্তু শুষ্ক ত্বকের চুলে প্রতি সপ্তাহে তেল ব্যবহার করতে হবে। তেল হালকা গরম করে আলতোভাবে চুলে মালিশ করে লাগাতে হবে। শ্যাম্পুও সঠিক নিয়মে করতে হবে। শ্যাম্পু করার পর ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে, যেন চুলের গোড়ায় শ্যাম্পু না থাকে। তা না হলে খুশকি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ থেকেও পরবর্তী সময়ে চুল পড়তে পারে।'
কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে চলতে হবে। চুলের গোড়ায় কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাবে না। এতে চুলের গোড়া নরম হবে, এমনকি খুশকির উৎপত্তি হতে পারে। মাথার ত্বক বাদে বাকি অংশে ব্যবহার করতে হবে, বিশেষ করে চুলের ডগায়। তৈলাক্ত ত্বকের চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
চুল ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর বাঁধতে হবে। অনেক সময় আমরা ভেজা চুল নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। তখন মাথার এক পাশের চুল শুকায় না। এতে চুল পড়ে। সম্ভব হলে প্রতি মাসে, তা না হলে তিন মাস অন্তর চুলের ডগা ছাঁটুন। এতে চুল পড়া কমে যাবে বলে জানান আফরোজা কামাল। বাইরে বের হলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে। আসল কথা, চুলের ত্বক পরিষ্কার রাখলে চুল পড়া কমানো সম্ভব।
চুল পড়া কমাতে বাজার থেকে আমলা প্যাক কিনে প্রতি সপ্তাহে ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুলের জন্য উপকারী।
হেনা প্যাকও চুলের জন্য ভালো। যারা শুধু প্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে চান, তারা হেনা বা মেহেদি ৩০ মিনিটের বেশি চুলে রাখবেন না। আর যাদের পাকা চুল, তারা সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা রাখবেন। তা না হলে চুলের গোড়া নরম হয়ে চুল পড়বে।
এ ছাড়া পাকা কলা ও টক দই মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারেন।
চুল ধোয়ার সময়...
চুল ধোয়ার আবার কী নিয়মকানুন? শ্যাম্পু দিলেই তো হলো। আপাতদৃষ্টিতে এমন মনে হলেও সঠিকভাবে চুল না ধুলে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। শ্যাম্পু ব্যবহারেরও যে নিয়ম আছে, তা অনেকেরই অজানা। সেসব জানিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ শিরিন হোসেন_
শ্যাম্পু করার সময় : প্রথমে আপনার মাথার ত্বকের ধরন বুঝে শ্যাম্পু বাছাই করতে হবে। বাজারে নানা ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু পাওয়া যায়। সেখান থেকে ভালোমানের এবং মেয়াদ আছে কি না তা দেখে শ্যাম্পু কিনতে হবে। অনেকে চুল অল্প ভিজিয়ে সরাসরি এর গোড়ায় শ্যাম্পু ঘষতে থাকেন। এটি ঠিক নয়। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যেতে পারে, আবার চুল পড়া ও খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সাধারণ তাপমাত্রার পানি দিয়ে শুরুতে চুল ভালোভাবে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর ছোট একটি বাটিতে শ্যাম্পুর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ পানি মেশাতে হবে। তারপর এ মিশ্রণ চুলের আগা থেকে শুরু করে গোড়া পর্যন্ত লাগাতে হবে। আঙুল দিয়ে এক মিনিটের মতো আলতো করে ঘষার পর ফেনার পরিমাণ কমে এলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
এ সময় মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল অাঁচড়াতে পারেন। এতে খুশকি ও চুলের গোড়ার ময়লা সহজে পরিষ্কার করা যায়। দ্বিতীয় দফায় একইভাবে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। তারপর ভালোভাবে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। কোনোভাবেই চুলে যেন শ্যাম্পু না থাকে তা খেয়াল রাখতে হবে। চুলের ভেতরে আঙুল দিয়ে বিলি কেটে পর্যাপ্ত পানির সাহায্যে তা পরিষ্কার করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। তা না হলে সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া অসম্ভব। এবার চুল চেপে পানি ঝরিয়ে নিন।
কন্ডিশনার ব্যবহার : শ্যাম্পু করার পর চুল মোছার আগে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে কিংবা যাদের চুল রেশমি, তাদের কন্ডিশনার ব্যবহার না করাই ভালো। ভেজা চুলে তেল দেয়ার মতো করে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। চুলের আগা থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে পুরো চুলে লাগান কন্ডিশনার। কিন্তু চুলের গোড়ায় কোনোভাবেই কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাবে না। এক মিনিট রেখে বেশি পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পুর মতো কন্ডিশনার যেন চুলে থেকে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কন্ডিশনার ক্রিমের মতো হলে এর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ পানি মিশিয়ে নিতে পারেন।
তেল কখন লাগাবেন : সাধারণত চুলে শ্যাম্পু করার আগের রাতে তেল লাগানো ভালো। তবে কারো তেলে বিরক্তি লাগলে বা হাতে সময় না থাকলে শ্যাম্পু করার এক ঘণ্টা আগে এটি ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে অন্তত একবার চুলে তেল ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের আগে তেল হালকা গরম করে নিতে পারেন। এরপর আঙুল বা তুলা দিয়ে মালিশ করতে হবে।
চুল শুকাতে হলে : চুল ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে তা পেঁচিয়ে নিতে হবে। এরপর তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চুল চেপে চেপে পানি ঝরিয়ে নিন। একটু পর চুল খুলে ফ্যান ছেড়ে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে অাঁচড়ান। এতে চুল শুকিয়ে আসবে। হাতে সময় না থাকলে সপ্তাহে এক-দুবার হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকাতে পারেন।
রূপবিশেষজ্ঞ নাইমা ইসলাম বলেন, 'চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ও তেল ব্যবহার করা উচিত। আমাদের নানা অজ্ঞতার কারণে স্বাভাবিকের থেকে বেশি হারে চুল পড়ে। দেখা যায়, যার মাথার ত্বক তৈলাক্ত, তিনি হয়তো শুষ্ক ত্বকের শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন। তৈলাক্ত চুলে দেড় মাস অন্তর তেল ব্যবহার করলেও চলবে। কিন্তু শুষ্ক ত্বকের চুলে প্রতি সপ্তাহে তেল ব্যবহার করতে হবে। তেল হালকা গরম করে আলতোভাবে চুলে মালিশ করে লাগাতে হবে। শ্যাম্পুও সঠিক নিয়মে করতে হবে। শ্যাম্পু করার পর ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে, যেন চুলের গোড়ায় শ্যাম্পু না থাকে। তা না হলে খুশকি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ থেকেও পরবর্তী সময়ে চুল পড়তে পারে।'
কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে চলতে হবে। চুলের গোড়ায় কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাবে না। এতে চুলের গোড়া নরম হবে, এমনকি খুশকির উৎপত্তি হতে পারে। মাথার ত্বক বাদে বাকি অংশে ব্যবহার করতে হবে, বিশেষ করে চুলের ডগায়। তৈলাক্ত ত্বকের চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
চুল ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর বাঁধতে হবে। অনেক সময় আমরা ভেজা চুল নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। তখন মাথার এক পাশের চুল শুকায় না। এতে চুল পড়ে। সম্ভব হলে প্রতি মাসে, তা না হলে তিন মাস অন্তর চুলের ডগা ছাঁটুন। এতে চুল পড়া কমে যাবে বলে জানান আফরোজা কামাল। বাইরে বের হলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে। আসল কথা, চুলের ত্বক পরিষ্কার রাখলে চুল পড়া কমানো সম্ভব।
চুল পড়া কমাতে বাজার থেকে আমলা প্যাক কিনে প্রতি সপ্তাহে ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুলের জন্য উপকারী।
হেনা প্যাকও চুলের জন্য ভালো। যারা শুধু প্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে চান, তারা হেনা বা মেহেদি ৩০ মিনিটের বেশি চুলে রাখবেন না। আর যাদের পাকা চুল, তারা সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা রাখবেন। তা না হলে চুলের গোড়া নরম হয়ে চুল পড়বে।
এ ছাড়া পাকা কলা ও টক দই মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারেন।
চুল ধোয়ার সময়...
চুল ধোয়ার আবার কী নিয়মকানুন? শ্যাম্পু দিলেই তো হলো। আপাতদৃষ্টিতে এমন মনে হলেও সঠিকভাবে চুল না ধুলে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। শ্যাম্পু ব্যবহারেরও যে নিয়ম আছে, তা অনেকেরই অজানা। সেসব জানিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ শিরিন হোসেন_
শ্যাম্পু করার সময় : প্রথমে আপনার মাথার ত্বকের ধরন বুঝে শ্যাম্পু বাছাই করতে হবে। বাজারে নানা ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু পাওয়া যায়। সেখান থেকে ভালোমানের এবং মেয়াদ আছে কি না তা দেখে শ্যাম্পু কিনতে হবে। অনেকে চুল অল্প ভিজিয়ে সরাসরি এর গোড়ায় শ্যাম্পু ঘষতে থাকেন। এটি ঠিক নয়। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যেতে পারে, আবার চুল পড়া ও খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সাধারণ তাপমাত্রার পানি দিয়ে শুরুতে চুল ভালোভাবে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর ছোট একটি বাটিতে শ্যাম্পুর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ পানি মেশাতে হবে। তারপর এ মিশ্রণ চুলের আগা থেকে শুরু করে গোড়া পর্যন্ত লাগাতে হবে। আঙুল দিয়ে এক মিনিটের মতো আলতো করে ঘষার পর ফেনার পরিমাণ কমে এলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
এ সময় মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল অাঁচড়াতে পারেন। এতে খুশকি ও চুলের গোড়ার ময়লা সহজে পরিষ্কার করা যায়। দ্বিতীয় দফায় একইভাবে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। তারপর ভালোভাবে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। কোনোভাবেই চুলে যেন শ্যাম্পু না থাকে তা খেয়াল রাখতে হবে। চুলের ভেতরে আঙুল দিয়ে বিলি কেটে পর্যাপ্ত পানির সাহায্যে তা পরিষ্কার করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। তা না হলে সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া অসম্ভব। এবার চুল চেপে পানি ঝরিয়ে নিন।
কন্ডিশনার ব্যবহার : শ্যাম্পু করার পর চুল মোছার আগে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে কিংবা যাদের চুল রেশমি, তাদের কন্ডিশনার ব্যবহার না করাই ভালো। ভেজা চুলে তেল দেয়ার মতো করে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। চুলের আগা থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে পুরো চুলে লাগান কন্ডিশনার। কিন্তু চুলের গোড়ায় কোনোভাবেই কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাবে না। এক মিনিট রেখে বেশি পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পুর মতো কন্ডিশনার যেন চুলে থেকে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কন্ডিশনার ক্রিমের মতো হলে এর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ পানি মিশিয়ে নিতে পারেন।
তেল কখন লাগাবেন : সাধারণত চুলে শ্যাম্পু করার আগের রাতে তেল লাগানো ভালো। তবে কারো তেলে বিরক্তি লাগলে বা হাতে সময় না থাকলে শ্যাম্পু করার এক ঘণ্টা আগে এটি ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে অন্তত একবার চুলে তেল ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের আগে তেল হালকা গরম করে নিতে পারেন। এরপর আঙুল বা তুলা দিয়ে মালিশ করতে হবে।
চুল শুকাতে হলে : চুল ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে তা পেঁচিয়ে নিতে হবে। এরপর তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চুল চেপে চেপে পানি ঝরিয়ে নিন। একটু পর চুল খুলে ফ্যান ছেড়ে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে অাঁচড়ান। এতে চুল শুকিয়ে আসবে। হাতে সময় না থাকলে সপ্তাহে এক-দুবার হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকাতে পারেন।